মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশফুল

শর হচ্ছে শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুলস্বচ্ছ নীল আকাশমায়াবী জ্যোস্না এসব কারণে এমন নাম হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে শর-এ মধ্যে কাশফুল হচ্ছে অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দেখা মেলে। আমাদের দেশের সব অঞ্চলেই নদীর ধারজলাভুমিচরাঞ্চলশুকনো রুক্ষ এলাকাপাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশফুল বেড়ে ওঠে। ঝকঝকে আকাশ আর কাশফুলেই শর-এর গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ওপর সোনালি আলোর ঝলমলানির মুগ্ধতা। সব মিলিয়ে শর-এ বাংলার প্রকৃতিতে দেখা দেয় শুভ্র স্নিগ্ধতা...

সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পাংথুমাই জলপ্রপাত


পাংথুমাই খাসিয়া শব্দ। এখানে এক সময় খাসিয়াদের বসবাস ছিলও। এখনো সেখানে রয়েছে খাসিয়াদের বড় একটি অংশ। গোয়াইনঘাট উপজেলার এই গ্রামটি হচ্ছে পাংথুমাই। পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম পাংথুমাই।  এই গ্রামের মুল সৌন্দর্য হচ্ছে মেঘালয় পাহাড় থেকে বেয়ে আসা দারুণ একটি ঝর্ণা। ঝরনাটি ভোগোলিক ভাবে ভারতে অন্তর্ভুক্ত। তাই আমরা বাঙালি এবং বাংলাদেশীরা শুধু দূর থেকেই দেখি এর সৌন্দর্য। খুব কাছে যেতে না পারায় পার্সোনালি আমার খুব খারাপ লেগেছে। নির্দিষ্ট একটা সীমানা থেকেই আমাদের এটা দেখতে হয়। অনেক উচু পাহাড় থেকে বেয়ে এসেছে বিশাল ঝরনা’টি। দূর থেকে দেখে মনে হয় সবুজের বুকে সাদা কাপড় বিছিয়ে রেখেছে। ঝর্ণাটি স্থানীয়ভাবে মায়ামতি এবং ফাটাছড়া ঝর্ণা নামে পরিচিত। পর্যটকদের কাছে সাধারণত পাংথুমাই ঝর্ণা নামেই পরিচিত। বিছানাকান্দি থেকে পাংথুমাই যাওয়ার পথেও দেখা যাবে দু’পাশে সবুজের সমারোহ। যা দেখে সহজেই চোখ জুড়িয়ে যায়।

রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪

বিছানাকান্দির বিছানায়


বিছানাকান্দি! নামটা কেমন জানি মনে হলেও, জায়গাটা অদ্ভুত সুন্দর। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিছানাকান্দির অবস্থান। বিছানাকান্দির সৌন্দর্য কেবলই বর্ষা এবং তার পরবর্তী সময়। শুষ্ক মৌসুমে খুব একটা বুঝা যায় না। তখন শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর গুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু বর্ষায় সেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথরের গা ঘেঁসে ছুটে চলে বিপুল জলরাশি। বাংলাদেশ-ভারত  সীমান্তে  দুরের  চেরাপুঞ্জি এবং মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসে ঠাণ্ডা পানির স্রোত। পাথরের উপর দিয়ে সেই পানির স্রোত বয়ে যায় পিয়াইন নদীতে। দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। ঠিক যেনও পাথুরে নদীর মত। এছাড়াও রয়েছে উচু নিচু পাহাড়ের সারি। দূর থেকে দেখে মনে হয় একে অপরের উপর হেলান দিয়ে আছে। আর সাথে মেঘের খেলা। মেঘ, পাহাড় এবং আকাশের মধ্যে যে গভীর একটা মিল সেটা বিছানাকন্দি গেলেই খুব ভালো বুঝা যাবে। বিছানাকান্দির উচু নিচু পাহাড়ের সারি দেখে মনে হয় ঠিক শৈশবের অংকনের পাহাড় গুলোর মত। উচু নিচু পাহাড়ের উপরে ভেসে থাকত মেঘের আভা। ঠিক যেনও শৈশবের স্বপ্নের পাহাড়ের মতই... 

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৪

দিনলিপি


মাঝে মাঝে কারণে অকারণে মন খারাপ হয়..বিক্ষিপ্ত হয়। তখনই হয়ত ইচ্ছে করে কোথাও হারিয়ে যেতে.. দুরে কোথাও! একবারে হয়ত সম্ভব হয় না কিন্তু কিছু সময়ের জন্য হলেও চাই সব সময়। ইট পাথরের এই শহরে কোথায় যাবো বুঝতে পারছিলাম না। তারপরে সিদ্ধান্ত হল উত্তরায় দিয়াবাড়ি যাবো। শুনেছি জায়গাটা খুব নিরিবিলি... হাটার জন্য, একটু ফ্রেশ বাতাসের জন্য উত্তম জায়গাটা। আসলেই জায়গাটা অনেক সুন্দর, অনেক নিরিবিলি। চারদিকে সবুজে আচ্ছাদিত। আমরা দু'জন হাউজ বিল্ডিং থেকে হাটা শুরু করেছি। বলতে গেলে পুরোটা রাস্তাই হেটে গিয়েছি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে চমতকার বাতাস ছিলো। হাটতে গিয়ে আমাদের মধ্যে তেমন ক্লান্তি ছিলো না। জায়গাটায় দেখার মত তেমন কিছু নেই কিন্তু তারপরেও জায়গাটা অনেক সুন্দর। হেটে বেশ ভালো লেগেছে.. শান্তি লেগেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময়ের কারণে আর হাটা সম্ভব হয়নি। অনেক'টা বাধ্য হয়েই রিক্সায় করে ফিরেছি। মন'টা খুব ভালো না হলেও কিছুটা সময় শান্তিতে ছিলাম... 

বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৪

দিনলিপি

সকাল’টা শুরু হয়েছিলও বৃষ্টি দিয়ে,  ঠিক শেষ’টাও বৃষ্টি দিয়েই হচ্ছে। সব মিলিয়ে আজকের আবহাওয়াটা আমার জন্য বেশ ভালো ছিলও। যদি অনেকেরই জন্য ছিলও ভোগান্তির। বিশেষ করে অফিসিয়াল মানুষদের জন্য। আমি নিজেও ভুগেছি কিন্তু বেশ উপভোগও করেছি। কখনো ঝমঝমানো, আবার কখনো ঝিরঝিরে বৃষ্টি। এই আছে তো এই নেই। কয়েকবার ভিজে আবার শুকিয়েছি। তারপর আবার ভিজেছি। বেশ মজা লেগেছে...

এছাড়া আজকে হাতির ঝিলের পরিবেশ’টাও ছিলও চমকার এবং নিরিবিলি। বৃষ্টি থাকায় মানুষজন ছিলও না বেশি।  অন্যান্য দিনে  বিকেলে মানুষের জন্য হাটা যায় না।  তাই আমি সাধারণত ঝিলের পাড়ে যাই রাতে। বাসার কাছে হওয়ায় এই সুবিধাটা পাচ্ছি। যখনই ইচ্ছে হয় যেতে পারি। যেমনটা পারিনা পছন্দের ধানমন্ডি লেকে! তবে ব্যাপার হচ্ছে ইদানিং হাতির ঝিলে ইঁদুরের এতো উপাত, যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। ভয়ে ঘাসের উপর বসা যায় না। কখন কোন দিকে দৌড় দেয়! :P এছাড়া আজকের বৃষ্টিতে পানির পচা দুর্গন্ধটা অনেকটাই কমে গেছে। অন্যদিন ময়লা পানির পচা দুর্গন্ধ বাতাসে চারদিক ভেসে বেড়াতো। যা খুব অস্বস্তিকর...  


বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০১৪

দিনলিপি

গ্রামের বাড়িতে সবচেয়ে ভালো লাগে সেখানকার আবহাওয়া। বাতাস'টা সব সময় বহমান থাকে। আর বাতাস'টা শরীরে সুখের পরশ বুলিয়ে যায় সব সময়। মুহুর্তেই শরীর ঠান্ডা করে ফেলে। অনেক টা জাদুর মত! এরপর ঝিঝি পোকার ডাক.. বর্ষায় ব্যাং এর ডাক! মনে হয় প্রকৃতিতে সব সময় একটা উসব লেগেই থাকে। এছাড়া রাতের আকাশ..চাদ দেখা.. বর্ষায় গ্রামের রাস্তায় বৃষ্টিতে ভেজা..ফুটবল খেলা..সব শেষে দল বেধে পুকুরে গোসল করা। সব মিলিয়ে অসাধারণ কিছু মুহুর্ত.... 

রাতের আধারে রাস্তার পাশে একা বসে আছি। গান শুনছি..অন্যদিকে ব্যাং ডাকছে তার আপন গতিতে। সেটাও শুনে যাচ্ছি গানের তালে তালে! খারাপ লাগছে না। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এখানেই থেকে যাই.. বাকি জীবন'টা এখানে এভাবেই কাটিয়ে দিই!

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

হুমায়ূনহীন দুই বছর


হুমায়ুন আহমেদ আমাদের মাঝে নেই দু’বছর হয়ে গেছে। দেখতে দেখতেই দুটো বর্ষা চলে যাচ্ছে। এর মাঝেই কতগুলো চাঁদনী রাত চলে গেলো। মনে হচ্ছে সেদিনই তাঁকে দেখেছিলাম শহীদ মিনারে, হাইকোর্ট মাঠে।  সেদিন অনেকের মত আমিও দু’ফোটা জল ফেলেছিলাম চোখের।  কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, সত্যিকার ভাবে তাঁকে ভালোবাসতে পারিনি। না হলে হয়ত এতদিনে একবার হলেও নুহাশপল্লী গিয়ে তাঁকে দেখে আসতে পারতাম। তখন হয়ত আবেগেই চোখে জল এসেছিলো।  জানি না...