মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

NSU সমাচার

NSU তে গতকাল যা দেখলাম! সকাল সাতটায় সময় মেইন গেটের সামনে বিশাল লাইন। প্রায় দুশত জনের মত বা তার বেশিও হতে পারে। আমরা তখনো লাইনে দাড়াইনি। এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। Mahtab গেলো তার আরেক ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতে। হঠা করে মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করানো শুরু করলো। আর সবাই লাইন ভেঙ্গে যার যার মত দৌড়ে ঢুকে গেলো। কেউ Nac বিল্ডিং এর পাঁচ নাম্বার ফ্লোরের দিকে আবার কেউ রিসোর্সের দিকে। কেউ লিফটে, কেউ সিড়ি বেয়ে। লিফটে উঠে আরেক কাহিনী! কেউ লিফটের পেছন সাইডে যেতে চায় না। সবাই সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কে আগে বের হয়ে আগে লাইন দিবে সেজন্য।  তারপর কোনরকমে উঠলাম। মোটামুটি লিফটের সামনেই জায়গা পেলাম। মনে মনে একটু স্বস্তি পেলাম, যে না আজকে Advising করতে পারবো কোর্স পাই আর না পাই।  তারপরে মাহতাব'কে ফোনে টেক্সট দিয়ে অবস্থান জানলাম। আমি তো ভেবেছিলাম বেচারা মনে হয় নাই হয়ে গেছে।:P পরে শুনলাম রিসোর্সে গিয়ে পিসির সামনেই বসে পড়ছে। তারপরে রুমে গিয়ে দেখি নাই নাই অবস্থা। কোন রকমে কোর্স নিয়ে বের হলাম। তারপরে তিন'টা পর্যন্ত Re-advising করে কোর্স মিলিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। কোর্স পাওয়ার খুশিতে মাহতাব আবার আল্লার দান-এ তেহারি খাওয়াইলো। ছেলেটা এমনি অনেক মহান।  

NSU যদি এভাবে চালাতে থাকে আমরা তো বেশি দিন বাঁচবো না মনে হয়। এমনি যায় যায় অবস্থা।
বিঃদ্রঃ এভাবে প্র্যাকটিস চলতে থাকলে NSU এর ছাত্র এবং ছাত্রীরা উসাইন বোল্টকে পেছনে ফেলে শীর্ষ দৌড়বিদ হয়ে বোল্টের ভাত মারবে। 

সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৪

অযাচিত কিছু কথা

আমার বাসা থেকে একটা সাইডে যেতে হলে হাতির ঝিল হয়েই যেতে হয়। যখন কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে হাতির ঝিল যাওয়া হয়, তখন মনে হয় না হাতির ঝিল গিয়েছি। শুধু মাত্র হাতির ঝিল’কে উদ্দেশ্য করে গেলেই মনে হয় হাতির ঝিল গিয়েছি। ইদানিং প্রতিদিনই হাতির ঝিলের উপর দিয়ে আসা যাওয়া হয়। আগে শুধু মাঝে মাঝে রাতে একটু হাটাহাটির জন্য যেতাম বা মন খারাপ হলে, ভালো না লাগলে যেতাম। এই হাতির ঝিলে আসা যাওয়ার কারণে পুরোনো একটা অনুভূতি মোটামুটি প্রতিদিনই মনে হয়। আগে যখন মাঝে মাঝে ধানমন্ডি লেক যেতাম তখন এই অনুভূতিটা হত।

বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৪

প্রথম আলোর জন্মদিনে


শেষ কবে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত এলাকায় গিয়েছিলাম মনে নেই আজ অনেকদিন পরে সেদিকে গিয়েছিলাম সন্ধায় ছবির হাট, হেমন্তের বইমেলা, প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সব কিছু টাচ করে এসেছি প্রথম আলোর ১৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অনেক মানুষ এসেছেন শুভেচ্ছা জানাতে অনেক দেখা অদেখা পরিচিত প্রিয়মুখদের দেখেছি, গান শুনেছি, বই কিনেছি দেশের গান, দশের গান, দেশের কথা, দশের কথা, হুমায়ূন আহমেদের কথা, গান শুনেছি বেশ ভালো লেগেছে

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৪

ভালো লাগার বিদ্যুৎ বিভ্রাট

অনেকদিন পর রাতে চাঁদের আলোয় ছাদে হাটছি যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু বিল্ডিং গুলো আবছা দেখা যায় দুয়েক'টা বাসার দুয়েক'টা জানালায় লাইটের আলো এবং মোমবাতির আলো মিটিমিটি জলছে বাকি সব অন্ধকার! অন্ধকারে চাঁদের আলো'টা বেশ উপভোগ্য লাগছে...অন্ধকারটাও এখন ভালো লাগছে! অনেকদিন পরে মোমবাতির আলোয় অনেক কাজ করেছি এই প্রথম স্টুডেন্ট পড়ালাম মোমবাতির আলোয় ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিলো! রেডিও শুনছি অনেকদিন পরে কলেজে পড়ার সময় রেডিও তে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছি রাত জেগে রেডিও শুনেছি ইদানিং সময় কাটানোর এতো অপশন যে রেডিও শুনা ভুলে গিয়েছিলাম আজ আবার ফিরে পেলাম সেই সব হারানো দিন শুধু অন্ধকারের কল্যানেই এসব সম্ভব হয়েছে... আহা অন্ধকার! ভালোবাসি অন্ধকার!

মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশফুল

শর হচ্ছে শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুলস্বচ্ছ নীল আকাশমায়াবী জ্যোস্না এসব কারণে এমন নাম হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে শর-এ মধ্যে কাশফুল হচ্ছে অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দেখা মেলে। আমাদের দেশের সব অঞ্চলেই নদীর ধারজলাভুমিচরাঞ্চলশুকনো রুক্ষ এলাকাপাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশফুল বেড়ে ওঠে। ঝকঝকে আকাশ আর কাশফুলেই শর-এর গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ওপর সোনালি আলোর ঝলমলানির মুগ্ধতা। সব মিলিয়ে শর-এ বাংলার প্রকৃতিতে দেখা দেয় শুভ্র স্নিগ্ধতা...

সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পাংথুমাই জলপ্রপাত


পাংথুমাই খাসিয়া শব্দ। এখানে এক সময় খাসিয়াদের বসবাস ছিলও। এখনো সেখানে রয়েছে খাসিয়াদের বড় একটি অংশ। গোয়াইনঘাট উপজেলার এই গ্রামটি হচ্ছে পাংথুমাই। পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম পাংথুমাই।  এই গ্রামের মুল সৌন্দর্য হচ্ছে মেঘালয় পাহাড় থেকে বেয়ে আসা দারুণ একটি ঝর্ণা। ঝরনাটি ভোগোলিক ভাবে ভারতে অন্তর্ভুক্ত। তাই আমরা বাঙালি এবং বাংলাদেশীরা শুধু দূর থেকেই দেখি এর সৌন্দর্য। খুব কাছে যেতে না পারায় পার্সোনালি আমার খুব খারাপ লেগেছে। নির্দিষ্ট একটা সীমানা থেকেই আমাদের এটা দেখতে হয়। অনেক উচু পাহাড় থেকে বেয়ে এসেছে বিশাল ঝরনা’টি। দূর থেকে দেখে মনে হয় সবুজের বুকে সাদা কাপড় বিছিয়ে রেখেছে। ঝর্ণাটি স্থানীয়ভাবে মায়ামতি এবং ফাটাছড়া ঝর্ণা নামে পরিচিত। পর্যটকদের কাছে সাধারণত পাংথুমাই ঝর্ণা নামেই পরিচিত। বিছানাকান্দি থেকে পাংথুমাই যাওয়ার পথেও দেখা যাবে দু’পাশে সবুজের সমারোহ। যা দেখে সহজেই চোখ জুড়িয়ে যায়।

রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪

বিছানাকান্দির বিছানায়


বিছানাকান্দি! নামটা কেমন জানি মনে হলেও, জায়গাটা অদ্ভুত সুন্দর। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিছানাকান্দির অবস্থান। বিছানাকান্দির সৌন্দর্য কেবলই বর্ষা এবং তার পরবর্তী সময়। শুষ্ক মৌসুমে খুব একটা বুঝা যায় না। তখন শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর গুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু বর্ষায় সেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথরের গা ঘেঁসে ছুটে চলে বিপুল জলরাশি। বাংলাদেশ-ভারত  সীমান্তে  দুরের  চেরাপুঞ্জি এবং মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসে ঠাণ্ডা পানির স্রোত। পাথরের উপর দিয়ে সেই পানির স্রোত বয়ে যায় পিয়াইন নদীতে। দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। ঠিক যেনও পাথুরে নদীর মত। এছাড়াও রয়েছে উচু নিচু পাহাড়ের সারি। দূর থেকে দেখে মনে হয় একে অপরের উপর হেলান দিয়ে আছে। আর সাথে মেঘের খেলা। মেঘ, পাহাড় এবং আকাশের মধ্যে যে গভীর একটা মিল সেটা বিছানাকন্দি গেলেই খুব ভালো বুঝা যাবে। বিছানাকান্দির উচু নিচু পাহাড়ের সারি দেখে মনে হয় ঠিক শৈশবের অংকনের পাহাড় গুলোর মত। উচু নিচু পাহাড়ের উপরে ভেসে থাকত মেঘের আভা। ঠিক যেনও শৈশবের স্বপ্নের পাহাড়ের মতই...